শুক্রবার সকালে লাতিন আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুতেই দেখা মেলে রোমাঞ্চের। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই কলম্বিয়ার রক্ষণভাগে ঢুকে ডি-বক্সে ফাউল আদায় করেন ভিনিসিয়ুস। তবে স্পটকিকে এগিয়ে যান বার্সেলোনার ফর্মে থাকা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল রাফিনিয়ার ১১তম গোল।
এরপর রদ্রিগো ও ব্রুনো গিমারাইশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগেনি। রদ্রিগোর একটি প্রচেষ্টা গোলপোস্টের সামান্য বাইরে চলে যায়, আর গিমারাইশ হলুদ কার্ড দেখায় যার ফলে তিনি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না।
কলম্বিয়া ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে ব্রাজিলের জালে বল জড়ান লুইস দিয়াস। ডান দিক থেকে মুনোসের পাস প্রথমে লাগে হামেস রদ্রিগেসের পায়ে, সেখান থেকে বল চলে যায় দিয়াসের কাছে। সহজেই আলিসনকে পরাস্ত করেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড দিয়াস।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে চলতে থাকে ম্যাচ। ভিনিসিয়ুস একাধিকবার বাম দিক থেকে ড্রিবল করে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন, তবে প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙা সহজ ছিল না।
৭১তম মিনিটে আলিসন একটি আক্রমণ রুখতে গিয়ে নিজেই চোট পান ও মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার বদলে মাঠে নামেন বেন্তো।
ম্যাচ যখন প্রায় ড্র হয়ে যাচ্ছিল, তখনই নায়ক হয়ে ওঠেন ভিনিসিয়ুস। ইনজুরি টাইমের নবম মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে জাল খুঁজে নেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। বাঁদিক থেকে কাট করে ঢুকে নেওয়া শটটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। ম্যাচের ভাগ্য তখনই নির্ধারিত হয়ে যায়। গোল করার পর পরই কোচ তাকে তুলে নেন, তবে কাজ তিনি তখনই সেরে ফেলেছিলেন।
এই জয়ে ১৩ ম্যাচে ৬ জয় ও ৩ ড্রয়ে ব্রাজিলের পয়েন্ট এখন ২১। এক ম্যাচ কম খেলা আর্জেন্টিনা রয়েছে শীর্ষে, তাদের পয়েন্ট ২৫। অন্যদিকে ১৩ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে কলম্বিয়া।
চোটের কারণে নেইমার ও মিডফিল্ডারদের অভাব, তবুও এমন এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় পেয়ে বাছাইয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিল ব্রাজিল। আর তার কেন্দ্রে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র—ফিফার বর্ষসেরা ফরোয়ার্ড যিনি আবারও প্রমাণ করলেন, কেন তিনি সেলেসাওদের ভবিষ্যতের মূল ভরসা।